মৌমিতা শিকড়ছিন্ন এক শিল্পীর ডানার বিস্তার। বারবনিতার গর্ভে জন্ম নেওয়া মৌমিতা অনাহূত আশ্রয় পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের কাছে। অনেকটা পরিস্থিতির শিকার কদম আলী যেন নিয়তির নির্দেশেই রাস্তা থেকে কোলে তুলে নেয় মৌমিতাকে। এ যেন নিয়তি। এরপর চিত্রকর হিসেবে শুধু মৌমিতার বিস্ময়কর উত্থান। এই উপন্যাসের বিস্তার শুধু মৌমিতাতেই আটকে থাকেনি, বরং ঘটনা প্রবাহিত হয়েছে আশ্চর্যজনক পরম্পরায় বহুমাত্রিকতায়। মৌমিতা এক অনাথ বালিকা, পাশাপাশি কদম আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। মৌমিতার পারম্পর্যে যেমন উঠে এসেছে স্ট্রিট বেশ্যার জীবন, একই সঙ্গে মায়ের মমতা, তেমনি কদম আলীর পারম্পর্যে উঠে এসেছে বর্তমান সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আদ্যোপান্তও। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কমিটমেন্ট, নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা যেমন দেখা যায় সজল চৌধুরীর ভেতরে, তেমনি একজন মেধাবী স্কলারের সমাজের গড্ডলিকায় গা ভাসানোর প্রবণতা পাওয়া যায় কদম আলীর চরিত্রে, পাশাপাশি হীন স্বার্থবোধে উজ্জীবিত একদল শিক্ষকের দেখাও মেলে মৌমিতা উপন্যাসে। এ হচ্ছে সেই আখ্যান যেখানে এক শিল্পী শেকড় থেকে বিচ্যুত হয়ে তার ডানার বিস্তার ঘটায় আবার শেকড়ে ফিরে আসার এক প্রবল আকুতিতে মাঝরাত্রিতে যে গুমরে কাঁদে। মোহীত উল আলম এক নিপুণ কথকের মতো এই সব ব্যথা আমাদের প্রাচীন লোকজ দর্শনের ভেতর দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন একদিকে, অন্যদিকে সমাজের উল্টোদিক-রিরংসা, ঘৃণা, ক্রোধ, হীনস্বার্থবোধ এসবও ফুটিয়ে তুলেছেন সুনিপুণভাবে। মৌমিতার এসব সমাজ রূপান্তরের ভেতর আপনাদের স্বাগতম।