মাত্র আঠারো বছর বয়সে মা টেরেসা (জন্ম১৯১০) ভারতবর্ষের মাটিতে পদার্পণ করেছিলেন মানবসেবার ব্রত উদ্যাপনের অঙ্গীকার নিয়ে। তারপর তিনি আর পিছনে ফিরে তাকাননি। আমৃত্যু (প্রয়াণ ১৯৯৭) মানুষের সেবাই ছিল তাঁর একমাত্র উপাসনা। কলকাতাকে কেন্দ্র করে তিনি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছিলেন নিঃস্বার্থ সেবার আলোকপ্রতিমা রূপে। দারিদ্র্য ও দুর্দশা থেকে মানুষের মুক্তি নেই—এই ধ্রুবসত্যকে স্বীকার করে নিয়ে পীড়িত, লাঞ্ছিত মানবাত্মার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এই সন্ন্যাসিনী । তাঁর সেবাকর্মের একমাত্র মূলধন ছিল ভালবাসা। অচিরেই মাদার টেরেসা হয়ে উঠেছিলেন প্রেম ও করুণার প্রতিমূর্তি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ যেন একটি নিঃশব্দ প্রার্থনা। জননীর কাজের প্রতি সারা পৃথিবী শ্রদ্ধা জানিয়েছে। নোবেল পুরস্কারের মতো সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়াও বহু স্বীকৃতি। যদিও মাদার মনে করতেন, তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার হল হীনবল, গরিব, মুমূর্ষ ও শরণাগত অতি সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ ভালবাসা। আবার অন্যান্য বিশ্বশুত মানুষের মতোই এই মহামানবীকে ঘিরে কত তর্ক, কত সন্দেহ, সমালোচনা, কত জিজ্ঞাসার ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু সেসব এত তুচ্ছ, এত সামান্য, যে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর তাঁর এই প্রিয় শহর কলকাতায় এসে সমগ্র বিশ্ব যেভাবে আনত হয়েছে, তাকে। অভূতপূর্ব বললেও কম বলা হয় । বাইশ বছর আগে, এই মহীয়সী জননীর জীবিতকালে, তাঁর জীবন ও সাধনা নিয়ে যে-গ্রন্থ লিখেছিলেন সুদেব রায়চৌধুরী, তার ঐতিহাসিক মূল্য আজও অম্লান। সেই স্মরণীয় গ্রন্থ পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত হয়ে এবার নব কলেবরে প্রকাশিত হল।