কবিজীবনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আত্ম-উন্মোচনের নানান ভঙ্গিতে পাঠকের সামনে উপস্থিত৷ কখনও ব্যাকরণ-ভাঙা এক তরুণ কবি, কখনও-বা আকুল প্রেমিক, কখনও সমাজ-সচেতন ক্রুদ্ধ এক স্পষ্টবাদী। তাঁর কবিতা-বিশ্বাস কিন্তু কোনও আয়োজনেই বদলে যায়নি এতটুকু। কৃত্রিমতাকে তিনি বর্জন করেছেন বরাবর। স্বীকারোক্তির নগ্নতাই তাঁর অপরূপ অবলম্বন। জীবনের শেষ পর্বের কবিতাগুলিতে পাঠক টের পাবেন তাঁর ভনিতাহীন স্বর। ‘নিজের কাছেই একটু একটু অপরিচিত’ কাব্যগ্রন্থের নানা ঢেউয়ে ভেসে উঠেছে স্মৃতি-জীবন্ত মা, স্ত্রী স্বাতী, পুত্র পুপলু। আছে ‘পাগল কোম্পানির মনসবদার’ শক্তি, রূপনারায়ণের কূলে জ্যোৎস্নায় মধুপান উৎসবে “...শক্তির ওগো কাঙাল আমারে কাঙাল করেছ শুনে/জল থেকে উঠে আসে এক জলকন্যা...”। স্নেহভেজা প্রেম, জ্যোৎস্নাভেজা রবীন্দ্রগান যে-তীব্রতায় হৃদয়কে আলোড়িত করে, সেই একই তীব্রতায় অতীতের এক নারী এসে বিশেষ স্পর্শ দাবি করে মরণাপন্নের কাছে। স্পষ্ট কোনও এক জাদু খেলা করে যেন। আরও স্পষ্ট হয় মা কিংবা প্রেমিকার মতো মেয়ে—“যে তোমার পাশেই বসে আছে, কোনও একদিন/তুমি ওর গর্ভে জন্ম নেবে!” মুহুর্ত ভাঙার শব্দে মায়াময় এই কাব্যগ্রন্থের আর-এক প্রাপ্তি রোমিও-জুলিয়েট অবলম্বনে কাব্যনাট্য।