বাবুর ঘাট স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন নীললোহিত। উল্টোদিকের একটি ট্রেন এসে দাঁড়াল। ট্রেনটি থেকে নামলেন এক কালোকোট-পরা টিকিট চেকার, সঙ্গে হলুদ রঙের ফ্রক-পরা এক কিশোরী। কিশোরীটি নাকি টিকিট হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু রেলের আইন সে-কথা শুনতে রাজী নয়। চারপাশে ক্রমশ জমছে কৌতূহলী লোকজনের ভিড়। বিনা টিকিটের যাত্রীকে নিয়ে কী হয়, দেখার জন্য। চকিতে মেয়েটিকে চিনে ফেললেন নীললোহিত। আরে, এতো নীপাবৌদি-চন্দনদার মেয়ে! এখানে একলা এল কী করে? পরীক্ষায় ফেল করার মেয়ে নয়, পড়াশুনায় দারুণ মনোযোগী। সিনেমায় নামার লোভে বোম্বে পাড়ি দিচ্ছে দশ-এগার বছরের মেয়ে, এ-সম্ভাবনাও ধোপে টেকেনা। তাহলে? এমন এক জটিল প্রশ্ন থেকেই শুরু হয়েছে নীললোহিতের এই আশ্চর্য উপন্যাস। বাবা-মায়ের ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে কী তীব্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে এক নিস্পাপ সরল কিশোর-মনের গভীরে, তাই নিয়েই এই ক্ষিপ্রগতি ও চিত্তাকর্ষক উপন্যাস। রম্য, তবু গূঢ়।