বয়স যখন সত্তুর পার হয়ে গেছে, এই বার্ধক্যে ভাবতে মন চায় -জীবনী রচনায় আমার সম্ভবত কোনো এক ধরনের স্বভাবজাত স্ফুর্তি আছে। তাই যদি না হবে তো, ছোটদের জন্যে ও বড়োদের উদ্দেশ্যে এত ক’টা জীবনীগ্রন্থ লেখা সম্ভব হয়ে উঠল কী করে? ‘রবীন্দ্রনাথ : কিশোর জীবনী’ লেখায় যে হাতেখড়ি হয় তার প্রণোদনা শক্তি ছিলেন হাবীব ভাই-শিশু সাহিত্যিক কবি হাবীবুর রহমান ,অকালে গত হয়েছে বহুকাল আগে। তখন আমার বয়স হবে বড়ো জোর চব্বিশ/পঁচিশ । সেই শুরু। ‘নজরুল: কিশোর জীবনী’ লিখতে হয় বাংলা একাডেমীর তৎকালীন সর্বেসর্বা কবি মনজুরে মওলার বড়ো আত্যন্তিক অনুরোধে; তাকে সশ্রদ্ধ চিত্তে ধন্যবাদ জানাই এই সুযোগে। এ দুটোই ছিল বড়ো কাজ, অর্থ্যাৎ কিশোরপাঠ্য পূর্ণায়তন জীবনীগ্রন্থ। পরে প্রকাশক ও লেখক বন্ধু মফিদুল হকের তাগিদে ক্ষীণ কলেবরে গুটি কয়েক জীবনী রচনা করতে হয়। তখন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে নিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে জীবনকথা লিখে ফেলি। ‘লালন সাঁই’ লিখি বাংলাদেশের শিশু একাডেমীর ইচ্ছা পূরণে। ‘পল্লীকবি জসীম উদ্দীন’ প্রথম মুদ্রিত হয়েছিল ভারতবর্ষের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা থেকে, অক্ষর পাবলিকেশনসের স্বত্বাধিকার শুভব্রত দেব প্রকাশ করেছিলেন। তাঁতে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।